ইতিহাস

প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ নৌকা ব্যবহার করতেন। নৌকা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বহন করে।

বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল ঘেঁষে প্রবাহিত পায়রা, বলেশ্বর, বিশখালী ও খাকদোন বিধৌত জেলা বরগুনা। এই জেলার নামকরণের যে একাধিক জনশ্রুতি রয়েছে তার প্রায় সবগুলোই নৌকার সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের নৌকা রয়েছে। কালের পরিক্রমায় এসব নৌকা হারিয়ে যাচ্ছে। এই হারিয়ে যাওয়া নৌকার স্মৃতি ধরে রাখতে মুজিব শতবর্ষে জেলা প্রশাসন বরগুনা একটি নৌকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জাদুঘরে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ধরণ ও আকৃতির নৌকাসমূহের অনুচিত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও নৌকা জাদুঘরের মাধ্যমে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ধারণ, জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বাংলাদেশের চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের নিকট নৌকার অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। বরগুনা জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোস্তাইন বিল্লাহ বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের নামকরণ, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করেন।